News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৮:৩০, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএ`র আত্মপ্রকাশ

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএ`র আত্মপ্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ)। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। 

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ও তিন জন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করেছে এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং সমাপ্ত হয় ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে। এনপিএর পক্ষ থেকে তিনজন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে—ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত ও তুহিন খান। 

এছাড়া ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া সদস্যদের মধ্যে অনার্য মুর্শিদ, তাহসিন আহমেদ অমি, মো. হাসিব, অনিক রায়, তুহিন খান, মোশফেক আরা শিমুল, অনিকেত চার্বাক, নজরুল ইসলাম, মোহন বড়ুয়া, অনিন্দ্য পন্ডিত, নাজমুল আহমেদ, রঞ্জন কুমার দে, অনিরুদ্ধ রতন দাস, রহমত উল আলম, অনুপম সৈকত শান্ত, নাফিসা রায়হানা, রাজীব চক্রবর্তী সুকান্ত, অপু সাহা, নাশাদ ময়ুখ, রাফসান আহমেদ, অমর্ত্য রায়, নাসিরউদ্দিন টগর, রাশেদুল কবীর রাফি, অলিউর সান, নিসর্গ নিলয়, রাহাত মুস্তাফিজ, অলিক মৃ, নীলা চাকমা, রাহুল দাস, আফজাল হোসেন, নুমান আহমাদ চৌধুরী, মেঘমল্লার বসু ও সৈয়দা নীলিমা দোলাসহ আরও অনেকে আছেন।

এনপিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটি একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই কাঠামোতে থাকবে না কোনো পেশিশক্তি, দখলদারিত্ব বা উগ্র গোষ্ঠীর আশ্রয়। দলের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নেওয়া। 

দলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এনপিএ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি ২২ বছর আগে বুয়েট ছাত্রী সাবেকুন নাহার (সনি) হত্যার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে উদ্ভূত। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বুয়েট নেতা অনুপম সৈকত শান্ত দেশান্তরিতভাবে এক বছর ধরে প্ল্যাটফর্মটির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। 

আরও পড়ুন: জামায়াতের নীতি ও আসন-বিতর্কে ভাঙল ‘১১ দল’, একক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থি সক্রিয়রা যেমন অনিক রায়, তুহিন খান, অলিক মৃ, বাকী বিল্লাহ, মীর হুযাইফা আল মামদূহ, ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদ এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন।

এনপিএর ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতা-কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। 

দলটি আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কেন্দ্রের প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এনপিএ লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা কৃষি উৎপাদন খরচ কমানো, সহজ কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো এবং প্রগতিশীল করব্যবস্থার মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেবে।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্ল্যাটফর্মটি। তারা উল্লেখ করেছে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প, নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও নগরায়ণের কারণে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল অঙ্গীকার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে এনপিএ নিশ্চিত করবে, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ। মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা, জানমালের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দলটির প্রতিশ্রুতির অংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। এনপিএর মতো সংগঠনগুলো পুরাতন রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়