জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।
বুধবার (০৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, সম্ভাব্য বিভিন্ন উৎস থেকে নির্ধারিত সময় ও পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বা সরবরাহ সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন কিছুটা হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে জনদুর্ভোগ এড়াতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে:
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করা।
- ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ।
- খোলাবাজারে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়া।
- জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ।
আরও পড়ুন: কূটনৈতিক দায়িত্বে তিন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা
সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, “এই সংকট শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ ব্যবহার করেই পরিস্থিতি সামলাতে হবে। বিভিন্ন সেক্টরে রেশনিং বা সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।”
এছাড়া তিনি জানান, দেশে হঠাৎ ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পেছনে সীমান্ত দিয়ে পাচারের প্রবণতা থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মার্চ মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ সফল করতে জনগণকে ধৈর্য ধারণ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








