নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ২৮ জুলাই ২০২৬

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি হেপাটাইটিসমুক্ত ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ সময়মতো টিকাদান, নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা, সামাজিক ভয় ও চিকিৎসা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এবারের বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য চলুন সহজভাবে বুঝি এর মূল লক্ষ্য হলো রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা তৈরি করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে বসবাস করছেন এবং এসব রোগে প্রতি বছর প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কার্যকর টিকা, নির্ভুল রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব, পরীক্ষা ও চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক মানুষ এখনো প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ দেশের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে লিভার রোগের উন্নত চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা কমে আসে।

আরও পড়ুন: জাপানের বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় রোগীরা এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাচ্ছেন। পাশাপাশি রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ই-হেলথ কার্ড এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা ও ফলোআপ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর এই নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী করতে সরকার বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি সুস্থ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা এবং চিকিৎসা গ্রহণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগের শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকায় নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। আর হেপাটাইটিস সি বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তবে রোগ শনাক্ত না হলে বা চিকিৎসা বিলম্বিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করে সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আরও সফল হবে এবং একটি নিরাপদ, সুস্থ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়