নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩২, ২৬ জুলাই ২০২৬

‘সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার’

‘সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার’

ফাইল ছবি

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, তাকে গ্রেপ্তারের রাজনৈতিক দাবি, সাংবিধানিক দায়মুক্তি এবং তার আইনি সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা পাবেন, তবে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি সরকারের কাছে নেই।

গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং সংসদ ভবনের এক সংবাদ সম্মেলনে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ২১ মাস আগেই তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে। 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী স্বাধীন রাজনৈতিক পরিবেশে সবারই কথা বলার, মত প্রকাশ করার এবং প্রতিবাদ করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এনসিপিসহ বিভিন্ন দল বা জোট তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলতেই পারে এবং সেটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব অভিযোগ বা গ্রেফতারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি বা উপাদান নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারের পতনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রায় ছয় মাস সময় পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিক বিধি-বিধান মেনেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এই পুরো সময়টাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সাংবিধানিক সহযোগিতা বজায় ছিল।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ইমিউনিটি বা দায়মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ও বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। 

আরও পড়ুন: জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, তার ওই দায়িত্বকালীন সময়ের কোনো কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্তের জন্য তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করার বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্বকালের বাইরের বা অতীত জীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যদি কারো কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে। রাষ্ট্রপতির আগের জীবন বা দুদক ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ের কোনো অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী কী ধরনের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আইন অনুযায়ী তিনি প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশেষ করে তার প্রটেকশন বা নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর সমন্বয়ে ছয় মাসের একটি বিশেষ বিধান রয়েছে। এই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এসএসএফ এবং পিজিআর তাকে নিরাপত্তা দেবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের গোপন কথোপকথন হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে পারে, তবে কোনো গণমাধ্যম এ ধরনের দাবি করলে তার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্বও তাদের। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে কারো সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ অলীক ও ভিত্তিহীন বলে মনে হয়।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অন্যান্য সমসাময়িক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। এক বিরোধী নেতার সরকার এক সপ্তাহের বেশি টিকবে না এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ পর কী হয়, তার জন্য অপেক্ষা করা যাক। 

রাজধানীর মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তাধীন রয়েছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিদেশি কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্যের প্রথম চালান তিন দিনের মধ্যেই পাঠানো হয়েছিল এবং আদালতের পরবর্তী চাহিদামাফিক তথ্যাদিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠানো হবে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে স্নাইপার রাইফেল ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন পুলিশ সদস্যের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়