সীমান্ত সংঘর্ষে কাবুলে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) আফগান রাজধানী কাবুল ও জালালাবাদসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সীমান্তের লড়াইয়ের প্রভাব এখন খোদ রাজধানীতেও অনুভূত হচ্ছে।
জালালাবাদ শহরে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র সাংবাদিকরা কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গর্জন ও ভারি অস্ত্রের গুলির শব্দ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এএফপি সংবাদদাতারা জানিয়েছে, শহরজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের গর্জন এবং বিভিন্ন ধরনের গুলির শব্দ শোনা গেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই এখনও চলমান।
জালালাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের তোরখামে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
পশ্চিম সীমান্তে সংঘাত শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার, যখন পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সশস্ত্র সংঘর্ষ এক সপ্তাহ ধরে চলমান।
আরও পড়ুন: চতুর্থ দিনে হামলা-পাল্টা হামলায় নিহত বেড়ে ৬১১
আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত জানিয়েছেন, সর্বশেষ ঘটনায় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছেন। আফগান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল জানিয়েছে, সংঘাতে শিশু হতাহতের খবর তাদের “উদ্বিগ্ন” করেছে এবং সকল পক্ষকে “সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার” আহ্বান জানিয়েছে।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী, যা বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সীমান্ত সংঘর্ষে আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারে সর্বশেষ সংঘর্ষ চলছে।
প্রাদেশিক তথ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের জাবুল প্রদেশেও লড়াই চলছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতা গত অক্টোবরের ঘটনার পর সবচেয়ে ভয়াবহ। তখন দুই পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে দুই দেশের স্থল সীমান্তের বেশিরভাগ অংশ বন্ধ রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








