আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

ফাইল ছবি

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৭.১ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। 

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূকম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো প্রিফেকচারের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ এক মিটার (প্রায় ৩.৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জাপান সরকার কিউশু দ্বীপের সাতটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রিফেকচার। ঘটনার পরপরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্রুততার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে সব ধরনের জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় কিউশু ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যাপক অবকাঠামোগত বিঘ্ন ঘটেছে। 

কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি অন্ধকারে ডুবে গেছে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দেশটির পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ারের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনদাই ও গেনকাইসহ অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা নিরাপত্তাজনিত বিপদের খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য ছাপিয়ে নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে ইরান যুদ্ধ

পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জেআর কিউশু নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সমস্ত ট্রেন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় উচ্চগতির শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পকবলিত ওই নির্দিষ্ট ও তার আশপাশের অঞ্চলে বিশ্বের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বড় কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কনজুমার ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট সনি এবং বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি (TSMC)-এর উৎপাদন কেন্দ্র অবস্থিত। 

সনির একজন প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, তারা বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছেন। তবে টিএসএমসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও সমুদ্রগর্ভস্থ খাতসমৃদ্ধ রিং অব ফায়ার-এর ওপর অবস্থান করায় এখানে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়; পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানে গড়ে প্রতি ৫ মিনিটে একটি মৃদু বা মাঝারি মানের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয় এবং বিশ্বে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশই এই দ্বীপরাষ্ট্রে ঘটে থাকে।

উল্লেখ্য, আজকের এই ভূমিকম্পটি ২০১৬ সালে কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়কার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে আড়াইশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটেছিল। এ ছাড়া চলতি বছরের গত ২৫ জুন জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপানি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য শক্তিশালী আফটারশক বা পরাঘাত সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং জনসাধারণকে নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়