News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ২ মার্চ ২০২৬

ইরানের ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির বৃহৎ তেল শোধনাগার রাস তানুরা

ইরানের ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির বৃহৎ তেল শোধনাগার রাস তানুরা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সৌদি আরবের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার ‘রাস তানুরা’র কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

সোমবার (০২ মার্চ) ভোরে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন দিয়ে চালানো এক ভয়াবহ হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরামকো। এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়েছে।

রাস তানুরা শোধনাগার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালনা করে। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। শোধনাগারে প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা সম্ভব। পাশের রপ্তানি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রেরণ করা হয়।

শোধনাগারটিতে শোধন ইউনিট, বড় বড় তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, পাইপলাইনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। এই কারণে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর এবং উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা চলমান। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে রাস তানুরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানে কোনো সমস্যা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: খামেনির মৃত্যুতে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী সৌদি বিমান হামলার জবাবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিমানবন্দর এবং আরামকোর স্থাপনায় নতুন হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রভাবে বাড়ছে।

এই হামলার সঙ্গে সমান্তরালে, ইরাকি কুর্দিস্তান ও ইসরায়েলের বড় বড় তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ইরাকি কুর্দিস্তানের বেশিরভাগ তেলক্ষেত্র উৎপাদন স্থগিত করেছে এবং ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের শেভরন পরিচালিত লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্রও বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মিশরে ইসরায়েলি গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিকে জানিয়েছেন, হামলাকারী দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ থেকে সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারের উপরে পৌঁছেছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এই ঘটনাগুলো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং তেল বাজারে সজাগ মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়