খামেনির মৃত্যুতে তেহরানের রাজপথে মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রত্যক্ষ সামরিক হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
রবিবার (০১ মার্চ) ভোরে পৃথকভাবে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। একই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষের ঢল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি, ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং তাসনিম জানিয়েছে, খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই রাজধানী তেহরানের রাস্তায় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দেশজুড়ে প্রিয় নেতার স্মরণে একাধিক শোক অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৪০ দিনের শোককাল ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনি হত্যার দাবি ইতোমধ্যেই করে আসছিল ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত ছিল না। রবিবার ভোরে ইরান সরকার চূড়ান্ত ঘোষণা করে বিশ্ববাসীকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: হামলায় ইরানে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
খবর অনুসারে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার অফিসে হত্যা করা হয়। হামলায় তার পরিবার থেকেও কিছুজন নিহত হয়েছেন। এই হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির জীবন ও নেতৃত্ব নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রিয় নেতার স্মরণে রাস্তায় অবস্থান করছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোকানুষ্ঠানগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, যদিও রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে।
আইআরজিসি (ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস) শোক প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে এবং প্রতিশোধ নেবে। তারা উল্লেখ করেছে, খামেনির শাহাদাতই তার বৈধতা এবং আন্তরিক সেবার স্বীকৃতি।
খামেনি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। পূর্বে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধসহ দেশটির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনের কারণে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ ইরানিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি খামেনির অবিশ্বাসকে আরও গভীর করে তুলেছে।
বর্তমানে খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও উত্তরাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে তীব্র করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার এই মুহূর্তে তেহরানসহ দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে এবং সাধারণ জনগণ প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








