তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ৭ জুন ২০২৬

ওপেনএআইয়ে সরকারি অংশীদারত্বের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

ওপেনএআইয়ে সরকারি অংশীদারত্বের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

ফাইল ছবি

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তার অর্থনৈতিক সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক অভিনব ও অভূতপূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোতে সরকারের শেয়ার বা মালিকানা অধিগ্রহণ এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা সরাসরি দেশের জনগণের মধ্যে বণ্টন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্ভাব্য মালিকানা অংশীদারত্বের বিষয়ে ইতিবাচক ও প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা প্রধান প্রধান এআই কোম্পানিগুলোর কিছু শেয়ার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যান বা অন্য কোনো প্রযুক্তি শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন কি না। 

জবাবে ট্রাম্প জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এমন কিছু বৈপ্লবিক ধারণা নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে মার্কিন জনগণ কার্যত কোম্পানিগুলোর অংশীদার হয়ে উঠবে এবং এর সাফল্যের অংশীদার হতে পারবে। 

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি খাতের প্রায় সব বড় কোম্পানির সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন এবং খুব দ্রুতই শীর্ষ নির্বাহীদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই আলোচনাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। 

ট্রাম্পের মতে, বিশ্বমঞ্চে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীন ও অন্যান্য দেশের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে রয়েছে এবং এই আধিপত্য ধরে রাখতেই জনগণকে এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হতে পারে একটি ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’ বা জাতীয় সম্পদ তহবিল। ওপেনএআইসহ অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কিন সরকার যে সম্ভাব্য শেয়ার বা মালিকানা লাভ করবে, তা জমা হবে এই বিশেষ ফান্ডে। এই ফান্ডের লভ্যাংশ ও আয় সরাসরি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ চলছে, যা এআই প্রযুক্তির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারে। 

মজার বিষয় হলো, ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান নিজেও এই ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: স্পেসএক্সকে মাসে ৯২ কোটি ডলার দেবে গুগল, এআই খাতে বড় চুক্তি

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অল্টম্যান নিজেই ২০২৫ সালের শুরু থেকে বড় বড় এআই প্রতিষ্ঠানে সরকারি অংশীদারত্ব ও জনকল্যাণমূলক মালিকানার ধারণাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতিতে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ নিয়ে আরেকটি সমান্তরাল প্রস্তাবও জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই কোম্পানিগুলোর ওপর একটি বিশেষ কর কাঠামো আরোপের দাবি জানিয়েছেন। 

স্যান্ডার্সের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং এক্সএআই-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে তাদের মোট শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে এককালীন ৫০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। এই করের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও শেয়ার সরাসরি দেশের জনগণের কল্যাণে এবং এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নে সরকার ব্যবহার করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

যদিও এই সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের অর্থনৈতিক মডেল এবং সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে সিলিকন ভ্যালি ও প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রখ্যাত প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাকস এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। 

তিনি মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্র ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর এবং অতিরিক্ত পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তৈরি হবে, যা মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে উদ্ভাবনের গতিকে শ্লথ করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই শিল্প যেভাবে রকেট গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ, ডাটা সিকিউরিটি এবং সর্বোপরি জনস্বার্থের প্রশ্নটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এর আগেও সেমিকন্ডাক্টর খাতের সংকট মোকাবিলায় বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল এবং কিছু বিরল মৃত্তিকা কোম্পানির শেয়ার অধিগ্রহণ করে এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ফলে এআই খাতেও মার্কিন সরকারের এই শেয়ার অধিগ্রহণ ও পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড গঠনের পরিকল্পনা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়