ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে: আইসিটি মন্ত্রী
টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল রূপান্তরের পথে দেশের কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে সরকারি সেবা গ্রহণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা ও প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৮ সালের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত আটটি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যকে তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে হলে কোনো জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। এ জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী দক্ষতা ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সহযোগিতায় গ্রামীণফোন ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে। এর আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রামীণফোন জানায়, কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, যার প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ে এ সংখ্যা ৪০ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, অর্থবহ ডিজিটাল সংযুক্তি শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার।
আরও পড়ুন: ভুয়া প্রোফাইল ঠেকাতে ফেসবুক আনছে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ
এ সময় গ্রামীণফোন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, টেলিনর ও জিএসএমএর প্রতিনিধিরা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান কর্মসূচির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








