জাতীয় ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের সদস্য হলেন জাবি অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান
জাবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও দেশের খ্যাতিমান বন্যপ্রাণী গবেষক ড. মনিরুল এইচ খান। দেশের সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, আবাসস্থল রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিশন গঠন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিশাখা-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক।
কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী রেজা খান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক নোবেল, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান এবং বন অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিশন হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল হওয়া বন বিভাগের জমি পুনরুদ্ধার, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বন্যপ্রাণীর খাদ্য নিশ্চিতে ফলদ গাছ রোপণের পরিকল্পনা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণে কমিশন ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী বর্তমানে নানা সংকটের মুখোমুখি। দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ বন্যপ্রাণী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বাস্তবতায় জাতীয় ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন গঠন সরকারের একটি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কমিশনের জন্য যে পরিকল্পনা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
আরঈ
আরও পড়ুন: ডুমুরিয়ায় প্রশাসনের খামখেয়ালিতে কার্যাদেশ পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা
উল্লেখ্য, ড. মনিরুল এইচ খান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য, স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁর গবেষণা ও অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত। জাতীয় ওয়াইল্ডলাইফ কমিশনের সদস্য হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বৈজ্ঞানিক, গবেষণাভিত্তিক এবং কার্যকর নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








