সিদ্ধিরগঞ্জে তালাবদ্ধ ভূমি অফিস, আধাঘণ্টা অপেক্ষায় প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা। কিন্তু ৯টা ১০ মিনিটেও কার্যালয়ে ঝুলছে তালা, নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চিহ্ন। এমন চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসের বারান্দায় সাধারণ মানুষের মতো চেয়ার পেতে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অভাবনীয় এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।
সরকারি সময় অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে প্রতিমন্ত্রী গিয়ে দেখেন কার্যালয়ের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে নেই। মূল ফটক খোলা থাকলেও ভেতরে কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ সময় ভূমি সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকেও অপেক্ষমাণ অবস্থায় দেখা যায়।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর একজন কর্মচারী এসে অফিসের তালা খুললে প্রতিমন্ত্রী ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কার্যালয়ে আসেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দিন সকাল পৌনে ১০টায় এবং সহকারী নায়েব ওমর ফারুক সকাল ১০টার পর অফিসে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। যারা দায়িত্বে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শিশু ইরাকে গলা কেটে হত্যার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। এতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের বহু অভিযোগ রয়েছে। নামজারি, খারিজ ও খাজনা পরিশোধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ, সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্ব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগে ‘ব্যাপক গ্যাপ’ কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কাজের সময়সীমা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত করা হয় না এবং আমলাতান্ত্রিক মনোভাব এখনও বিরাজমান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সারা দেশে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যাগুলো বিধি অনুসারে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের তথ্যমতে, নির্ধারিত অফিস সময়ের কয়েক মিনিট পর প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালেও তখনও কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওচিত্রে দেরিতে আসা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে দেখা যায়। প্রতিমন্ত্রী দেরির কারণ জানতে চাইলে কেউ কেউ অসংলগ্ন উত্তর দেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেবাগ্রহীতারা অফিসে এসে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। সব অভিযোগ যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানি কর বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কারণে সেদিন অফিসিয়ালি অর্ধদিবস ছুটিতে ছিলেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত আছেন এবং তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
আকস্মিক এ পরিদর্শনকে সরকারি দপ্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে সম্পৃক্ততা থাকা উচিত, তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশের ভূমি অফিসে সেবার মানোন্নয়ন ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








