নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ১৮ মে ২০২৬

স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত

স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত

ফাইল ছবি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে একদিকে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে উচ্চ সুদের হার, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মূল্যবান এই ধাতুর ওপর চাপ বজায় রয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরবর্তীতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে স্পট গোল্ডের দর সামান্য বৃদ্ধি পায়। 

গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৭ মিনিটে স্পট গোল্ড ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪,৫৪৬ ডলারে লেনদেন হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগামী মাসের সরবরাহ চুক্তির স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স প্রায় ৪,৫৪৯ ডলারে নেমে আসে, যা বাজারে মিশ্র প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না, বরং এটিকে সাময়িক সংশোধন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নিকোস জ্যাবৌরাস মনে করেন, স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনো শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে এবং বাজার এখনই এটিকে বেয়ারিশ প্রবণতার দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। 

তবে তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে, বরং কিছু বিনিয়োগকারী আবারও হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে স্বর্ণের মতো কোনো আয় না দেওয়া সম্পদের ওপর স্বাভাবিকভাবেই চাপ বৃদ্ধি পায়।

আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টোকিও থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-রুচি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার কমলো সোনার দাম

এ অবস্থায় বড় বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোও স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য পূর্বাভাস পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। জেপি মরগান ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে ৫,৭০৮ ডলার থেকে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে। 

ব্যাংকটির মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি, সুদের হার নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারকে অস্থির রাখতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশেষ করে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা হ্রাস পেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বর্ণের চাহিদা আবারও বাড়তে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার সামান্য বেড়ে প্রায় ৭৫.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, প্লাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১,৯৭৩ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে ১,৪১৬ ডলারের ওপরে লেনদেন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ দফায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের অংশ। নতুন নির্ধারিত দরে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও ভিন্ন ভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে, যেখানে সর্বনিম্ন মানের স্বর্ণের ভরিও দেড় লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে রুপার দামও ভরিতে কয়েক হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বারবার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে বহুবার দাম বৃদ্ধি ও কিছু ক্ষেত্রে হ্রাসও ঘটেছে। 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক দামের অস্থিরতা, ডলারের অবস্থান এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দেশের স্বর্ণবাজারেও এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়