News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, এপ্রিলের ১২ দিনে ১৪৩ কোটি ডলার

রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, এপ্রিলের ১২ দিনে ১৪৩ কোটি ডলার

ফাইল ছবি

দেশের ইতিহাসে প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে চলতি এপ্রিলে। মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে এসেছে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩০ টাকা হিসেবে)। এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে প্রায় ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ২১.১০ শতাংশ। এর আগে সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

আরও পড়ুন: ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি

সম্প্রতি প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

গত বছরের শেষার্ধেও প্রবাসী আয়ের গতি ছিল বেশ শক্তিশালী। তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় এসেছে। অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানা উদ্যোগ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য সমন্বিত হওয়ার ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রাপ্তি একটি অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়