প্রচণ্ড গরমেও ১৪৫ কিমিতে বোলিং, রহস্য ফাঁস করলেন নাহিদ রানা
ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিলের অসহনীয় দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের তপ্ত ২২ গজে তখন চলল গতির মহোৎসব। বৈশাখের প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম আর ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গতির ঝড় তুললেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে ১৪০ কিলোমিটারের ওপর গতি বজায় রেখে তুলে নিলেন ৫ উইকেট, যার তোপে পড়ে ২০০ রানের আগেই স্তব্ধ হয়ে যায় কিউইদের ইনিংস। নাহিদ রানার এই বিধ্বংসী স্পেলে ৬ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এদিন টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই নাহিদের গতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে। ২৩ বছর বয়সী এই পেসার নিজের স্পেলের প্রথম বলেই ১৪৪.৬ কিমি গতিতে বোলিং করে সাজঘরে ফেরান হেনরি নিকোলসকে। বিস্ময়কর বিষয় ছিল তার গতির ধারাবাহিকতা; ১০ ওভারের কোটার শেষ বলটিতেও তার গতি ছিল ১৪৫.৯ কিমি। মাঝপথে একটি স্লোয়ার ছাড়া প্রায় প্রতিটি ডেলিভারিই ছিল ১৪০ থেকে ১৪৭ কিলোমিটারের ঘরে। প্রচণ্ড গরমে যেখানে ফিল্ডারদের টিকে থাকাই দায় ছিল, সেখানে এমন আগ্রাসী বোলিংয়ের রহস্য হিসেবে নাহিদ তাঁর ফিটনেস সচেতনতাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফিটনেস ট্রেইনারদের পরামর্শে অফ-টাইমে জিম ও রানিংয়ের ওপর বাড়তি জোর দেওয়ার কারণেই মাঠে তিনি কখনো ক্লান্তি অনুভব করেন না। নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখাকেই বড় করে দেখছেন এই 'চাঁপাই এক্সপ্রেস'।
নাহিদের বোলিং তোপে নিউজিল্যান্ডের কোনো ব্যাটারই বড় জুটি গড়তে পারেননি। বিশেষ করে মিডল ওভারে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট নেওয়া এই পেসারের প্রশংসা ঝরল কিউই ব্যাটার নিক কেলির কণ্ঠেও।
আরও পড়ুন: সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তানজিম সাকিবকে নিয়ে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা বিসিবির
দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ৮৩ রান করা কেলি জানান, টানা ৪ ঘণ্টা কড়া রোদে থাকার পর এমন এক্সপ্রেস গতিতে বোলিং করা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
তার মতে, উইকেটের বাউন্স ও সুইংকে কাজে লাগিয়ে নাহিদ যে আক্রমণাত্মক বোলিং করেছেন, তা-ই দুই দলের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তবে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে আশাবাদী কেলি।
যদিও পাল্টা জবাবে নাহিদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জয় কেবল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই অর্জন করতে হয়, কথার লড়াইয়ে নয়।
আগে মূলত শর্ট অব লেংথ বোলিংয়ে পারদর্শী হলেও বর্তমানে পেস বোলিং কোচ শন টেইটের অধীনে ইয়র্কার ও সুইং নিয়ে কাজ করছেন নাহিদ। সেই উন্নতির ছাপ স্পষ্ট ছিল তার বোলিং বৈচিত্র্যে। ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বিসিবির ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অধীনে নিজেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তুত করছেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ম্যাচে এসে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারি এই পেসার এখন টাইগারদের বোলিং ইউনিটের অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছেন।
নাহিদ রানার এই রেকর্ড গড়া বোলিংয়ের পর তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে চড়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এখন সবার নজর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, যেখানে অঘোষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন নাহিদ রানার সেই গতির আগুনেই দেখছে দেশের ক্রিকেট ভক্তরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








