নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৭, ৮ জুন ২০২৬
আপডেট: ২০:৩৭, ৮ জুন ২০২৬

১০০ দিনে বেড়েছে অপরাধ ও নারী নির্যাতন, সংসদে ক্ষোভ রুমিন ফারহানার

১০০ দিনে বেড়েছে অপরাধ ও নারী নির্যাতন, সংসদে ক্ষোভ রুমিন ফারহানার

ফাইল ছবি

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের শাসনকালে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে জাতীয় সংসদে এক ঝাঁঝালো ও তীক্ষ্ণ সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। 

সোমবার (০৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দাঁড়িয়ে তিনি দেশের এই নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির খতিয়ান খোদ আইনসভার সামনে উন্মোচন করেন। 

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি তো হয়ইনি, বরং অপরাধের গ্রাফ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

বক্তব্যের সপক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত উদ্ধৃত করে এই সংসদ সদস্য জানান, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে কেবল মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসেই অপরাধের মাত্রা কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা কাগুজে হিসাব দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুই মাসে দেশজুড়ে মোট ৬০৫টি নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি সুসংগঠিত ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের সাধারণ নাগরিক তো বটেই, খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এখন নিরাপদ নন। এই দুই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং একই সাথে নথিভুক্ত চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি, যা দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা ও মনোবল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।

দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার চরম বিপর্যয় ও নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা সংসদে আরও কিছু স্পর্শকাতর ও লোমহর্ষক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। 

আরও পড়ুন: নগরে মাঠ ও পার্ক পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নে অনড় সরকার

তিনি জানান, আলোচ্য সময়ে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে মোট ৩ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে কেবল ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন নারী, এবং সংঘবদ্ধ বা গণধর্ষণের নির্মম শিকার হতে হয়েছে ৩০ থেকে ৩৬ জনকে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধের মচ্ছব থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও; আলোচ্য সময়ে ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ থেকে ৭১ জনে। 

এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের অবতারণা করে তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে নগর জীবন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর ও জরাজীর্ণ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা এই খতিয়ান থেকেই প্রমাণিত হয়।

সরকারের সার্বিক সফলতা, জবাবদিহিতা ও ব্যর্থতার দায় বণ্টন করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা একটি সুনির্দিষ্ট সমীকরণ প্রকাশ করেন। 

তিনি মন্তব্য করেন, যেকোনো সরকারের মোট সাফল্যের অর্ধেক বা ৫০ ভাগ নির্ভর করে মূলত দুটি প্রধান খাতের ওপর একটি হলো দেশের অর্থনীতি এবং অন্যটি হলো ভেতরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বাকি ৫০ ভাগ সফলতা বা ব্যর্থতা বণ্টন হয় সরকারের অন্যান্য সব মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর। ফলে এই সরকারের সফলতার একটি বিরাট অংশ মূলত অর্থ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষতার ওপরই বর্তায়। 

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি আজ সংসদে উপস্থিত থাকতেন, তবে তার মন্ত্রণালয়ের এই চরম ব্যর্থতার খতিয়ান আরও স্পষ্ট এবং সরাসরি তার সামনে তুলে ধরা সহজ হতো। দেশের মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়