স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ৭ জুন ২০২৬
আপডেট: ১৫:৫৫, ৭ জুন ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশের প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশের প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন ও রায় ঘোষণায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের কারণেই আলোচিত মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত। তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করায় মামলাটি প্রমাণ করা কঠিন ছিল না। এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে।

এর আগে রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল-এর বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ধর্ষণ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। আদালত উল্লেখ করেন, সুরতহাল প্রতিবেদন, চিকিৎসা প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যার রায় ৩ মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী

দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই আদালত রায় ঘোষণা করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়