২১ ওয়ার্ড নিয়ে এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন বগুড়া
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর বগুড়া অবশেষে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বগুড়া পৌরসভা ও এর আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর প্রথম তফসিল সংশোধন করে নতুন এই সিটি করপোরেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর বগুড়া এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে প্রশাসনিকভাবে স্বীকৃতি পেল, যার অধীনে মোট ২১টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় বগুড়া জেলা প্রশাসন বিদ্যমান পৌরসভা ও সম্প্রসারিত এলাকার ওপর মতামত আহ্বান করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং প্রশাসনিক ও জনমত যাচাই শেষে সিটি করপোরেশন গঠনের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।
আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের চাপে টিসিবিমুখী নিরুপায় মধ্যবিত্তরা
নতুন সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরে রয়েছে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা, রাজাপুরের অংশ ও শাখারিয়া ইউনিয়ন; দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়নের অংশ; পূর্বদিকে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুরের সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা এলাকার অংশ; আর পশ্চিমে বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়ন। বগুড়া পৌরসভার বিদ্যমান নগর এলাকা এবং আশপাশের এসব সম্প্রসারিত অঞ্চল মিলিয়েই নতুন সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাঠামো গঠিত হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বগুড়া পৌরসভাকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করার লক্ষ্যে এ রূপান্তর কার্যকর করা হয়েছে। বগুড়া পৌরসভা, যা ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলো। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে নগর সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসবে।
নতুন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বগুড়া জেলা ও শহরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবি ও আলোচনা চলছিল। সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায় এবং নগরবাসীর একটি বড় অংশ একে উত্তরাঞ্চলের জন্য প্রশাসনিক ও উন্নয়নগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঘোষণার আগেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ প্রশাসক বা মেয়র পদ ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়। বিশেষ করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক স্থানীয় নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় প্রচার এবং ঢাকাকেন্দ্রিক তদবিরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নাম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, পাশাপাশি জেলা ও যুবসংগঠনের একাধিক নেতা।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠন শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও নগর উন্নয়ন কাঠামোর ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নতুন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বা ভবিষ্যৎ নির্বাচিত মেয়র কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিষয়টি অবস্থান করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








