পুলিশ আর রাজনৈতিক হাতিয়ার হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সদস্যদের সজাগ থাকার পাশাপাশি নতুন শপথে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায় এবং এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে পুলিশ বাহিনীকে সাধ্য ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে আত্মত্যাগকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; সেই স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষা করাও রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংঘটিত ঘটনাকে স্মরণ করেন, যেখানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহ শুরু: উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সেই রক্তস্নাত ইতিহাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে আজকের পুলিশ বাহিনীকে নতুন অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের প্রতিরোধ এবং অন্যান্য মুক্তিকামী শক্তির লড়াই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ইতিহাস ও গবেষণার প্রেক্ষাপটে কিছু প্রশ্নের কথাও উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশের পেশাগত দক্ষতা, বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এটি প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, অতীতে বা ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক বা ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশকে দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১০ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত নানা কর্মসূচি চলবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের বর্ণাঢ্য প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খোলা জিপে দাঁড়িয়ে অভিবাদন গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে থাকায় এবার পুলিশ পদক প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








