নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:১৪, ১০ মে ২০২৬

রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহ শুরু: উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহ শুরু: উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। 

রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টার পর প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনটি শুরু হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মাধ্যমে। বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল পরিবেশে অংশ নেন পুলিশ সদস্যরা। প্যারেডের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন বলে জানানো হয়।

এবারের পুলিশ সপ্তাহ ১০ মে থেকে শুরু হয়ে ১৩ মে পর্যন্ত চলবে। আয়োজনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং আইজিপি পৃথক বাণী প্রদান করেন।

তবে এবারের পুলিশ সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১০৯ জন পুলিশ সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন তালিকা ঘিরে গুরুতর অস্বচ্ছতা, তদবির, এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময় পদক পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা এবারও তালিকায় স্থান পান, যা নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।

সূত্র আরও জানায়, তালিকায় থাকা অন্তত ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বিতর্কিত অভিযান পরিচালনা বা প্রভাব খাটিয়ে পদক পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে পদক প্রদান কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুন: তদবির ও বিতর্কের জেরে পুলিশ পদক প্রদান স্থগিত

অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ সপ্তাহের পর বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে নতুন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ভালো কাজ করেও অনেকেই তালিকায় স্থান পাননি, অন্যদিকে তদবির ও প্রভাবশালী সংযোগ থাকা ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। অতীতের মতো রাজনৈতিক বিবেচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে পদক বিতরণ ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে এবারের পুলিশ সপ্তাহে আয়োজনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে সাতদিনব্যাপী এই আয়োজন এবার চারদিনে সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়সংকোচন নীতি অনুসরণ করে অতিথি ও আনুষ্ঠানিকতার পরিধিও কিছুটা কমানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সীমিত আয়োজনের মধ্যেও পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, কর্মপরিবেশ, পদোন্নতি, এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দাবি আলোচনায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপাররাও উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলেও পদক বিতরণ নিয়ে বিতর্ক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবারের পুলিশ সপ্তাহকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে। ১৩ মে পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচিতে আগামী দিনে আরও নীতিগত ঘোষণা ও দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়