News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

‘আগামী ২ মাস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই’

‘আগামী ২ মাস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই’

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে সরকার। বর্তমানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সংকট নেই। একই সঙ্গে চলতি এপ্রিল মাসসহ আগামী দুই মাসেও জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। 

তিনি বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেল মজুত রয়েছে এ বিষয়ে সরকার দৃঢ় অবস্থানে আছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রিফিংয়ে যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকারের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত আছে। চলতি এপ্রিল মাস তো বটেই, ইনশাআল্লাহ আগামী মে ও জুন মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট তৈরি হবে না।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এছাড়া অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন মজুত আছে। আকাশপথে যাতায়াতের জন্য অপরিহার্য জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত এক মাসে সারাদেশে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন এবং ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েলসহ সর্বমোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম আগামীতে বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব জানান, মে মাসে দাম সমন্বয় করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং পর্যাপ্ত সরকারি মজুত থাকার ফলে বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হবে। সরকার সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়