শক্তিশালী হয়ে উত্তরমুখী ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’, ৪ বন্দরে সতর্কতা
ফাইল ছবি
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করে ঝড়টি এখন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন তামিলনাড়ু উপকূলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং ঝড়টির শক্তি ও ব্যাপ্তি দুটিই বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অবস্থান করছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১,৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১,৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ১,৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ১,৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
এর আগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে অবস্থান ছিল আরও দক্ষিণ-পশ্চিমে—চট্টগ্রাম থেকে ১,৮৬৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১,৮১৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১,৭৩০ কিলোমিটার ও পায়রা থেকে ১,৭৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে। আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করায় ঝড়ের অগ্রগতি ও দিক পরিবর্তনের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্টে বাড়ছে চাপ, বিপর্যয়ের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকা ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝড়টি আরও শক্তিশালী হলে বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি এবং সতর্ক সংকেত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
এদিকে পাঁচ দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রথম দুই দিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ২ ডিসেম্বর থেকে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
৩ ডিসেম্বর দিনের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪ ডিসেম্বর রাত–দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও শুষ্ক আবহাওয়াই বিরাজ করবে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ে কোনো উল্লেখযোগ্য আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ঢাকায় রবিবার দিনের বাতাসের গতি পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮–১২ কিলোমিটার থাকতে পারে। বৃষ্টি সম্ভাবনা খুব কম থাকায় আবহাওয়া সার্বিকভাবে শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি ও দূরত্ব থেকে বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ঝুঁকি না থাকলেও বঙ্গোপসাগরে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ফলে উপকূলীয় জনপদ, নৌযান ও জেলেদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশনা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








