News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১৪ জুলাই ২০২৫

গণভবন এখন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’: উদ্বোধন ৫ আগস্ট

গণভবন এখন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’: উদ্বোধন ৫ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে রাজধানীর গণভবনেই প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। আগামী ৫ আগস্ট ২০২৫, আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকায় গণভবনে জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

উপদেষ্টা ফারুকী জানান, জাদুঘরটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উদ্বোধনের দিন একাধিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন এই জাদুঘরের যাত্রা শুরু হবে, তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি পরবর্তী সময় থেকে উন্মুক্ত থাকবে।

জাদুঘরের অবস্থান নিয়েও এসেছে ঐতিহাসিক বার্তা। একসময়কার ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল গণভবনকেই রূপান্তর করা হচ্ছে স্মৃতি ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে। 

ফারুকী বলেন, এই ভবন থেকেই বছরের পর বছর ধরে দমন-পীড়ন, গুম-খুন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা পরিচালিত হয়েছে। সেই ভবনই এখন হয়ে উঠছে গণচেতনার প্রামাণ্য দলিল।

জাদুঘরে থাকবে জুলাই বিপ্লবের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ স্থিরচিত্র, শহীদদের ব্যবহার করা জামাকাপড়, আন্দোলনকারীদের চিঠিপত্র, অডিও-ভিডিও দলিল, খবরের কাগজের কাটিং এবং আওয়ামী লীগ শাসনামলের নানা নিপীড়নের দলিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশেষ একটি স্থানে উপস্থাপন করা হবে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তের পুনর্গঠন।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ কেন ঘোষণা নয়: হাইকোর্ট

তিনি বলেন, আমরা আদালতের বিচার থামাব না। কিন্তু এ জাদুঘরে কেউ প্রবেশ করলে যেন নিজের বিবেক দিয়েই বুঝতে পারেন— শেখ হাসিনার অপরাধ কী ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার প্রমুখ। 

উপদেষ্টা শারমীন বলেন, এই জাদুঘর শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, নারীর ওপর সহিংসতার দলিলও ধারণ করবে।

সরেজমিন দেখা যায়, গণভবন ভবনটির বাইরের অংশে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও ভেতরের প্রদর্শন কক্ষগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভবনটির বিভিন্ন অংশ সাজানো হচ্ছে ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনের নিপীড়নমূলক ইতিহাস ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে।
একটি আন্তর্জাতিকমানের আইনি কাঠামো ও পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে জাদুঘর পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে আলোচিত। ইউরোপের July Archive Network এবং Amnesty Watch এই উদ্যোগকে গণতান্ত্রিক ইতিহাস সংরক্ষণের অনন্য মডেল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি একটি চেতনার মঞ্চ, যেখানে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস জাগ্রত থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়