নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ২ আগস্ট ২০২৬

দুবাইয়ে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ

দুবাইয়ে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ

ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। 

দুবাইয়ের একটি স্থানীয় আদালত গত ২৭ জুলাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন। 

জামিনের পর বেনজীর আহমেদ শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানালেও, চলমান আইনি প্রক্রিয়া বা মামলার ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে এই মুহূর্তে গণমাধ্যমে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দুবাইয়ের একাধিক কূটনৈতিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই আইজিপির জামিনের ক্ষেত্রে আদালত বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে তার পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় বা হেফাজতে জমা রাখতে হবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বন্দি প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের প্রাথমিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি বিষয় উভয় পক্ষের শুনানিতে উপস্থাপিত হওয়ার পর আদালত এই শর্তসাপেক্ষ জামিনের আদেশ দেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: হত্যা ও অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড

এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলার ভিত্তিতে তাকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়। দুবাই পুলিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের পারস্পরিক সহযোগিতায় এই গ্রেফতাতার অভিযান পরিচালিত হয় এবং গত ১২ জুন এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে তার আটকের বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে বন্দি প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুবাই পুলিশ যোগাযোগ করে এবং আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত তলব করে। বর্তমানে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তারা সেসব নথিপত্র ও তথ্য প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে নানা বিতর্কের পাশাপাশি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি দেশত্যাগ করেন এবং এর ধারাবাহিকতায় দুদক তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে। বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলশ্রুতিতে দুবাইয়ে তার গ্রেফতার এবং বর্তমানের এই জামিন ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার বিষয়টি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়