রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্বে তারেক রহমান
ফাইল ছবি
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করার পূর্ণ ও সর্বময় দায়িত্ব দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (০১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দেড় ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের একটি সাংবিধানিক এখতিয়ার।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাদের প্রস্তুতির কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছে। কমিশন যেকোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারে বলে জানিয়েছে নীতিনির্ধারকরা। তফশিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও এ সংক্রান্ত যাবতীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের হাতে অর্পণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন দায়িত্ব পেলেন ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি
বিশেষ অধিবেশন ও ভোটাভুটির প্রসংগে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র বিক্রি, জমা ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি একক প্রার্থী থাকে, তবে কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন নির্ধারণ করবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনা না হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। তবে সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্য মত প্রকাশ করেছেন যে, আগামী জানুয়ারির আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত হবে না। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সুচারুভাবে তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য বিএনপি একটি সুপারভাইজিং ও মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এরই অংশ হিসেবে তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করতে দলীয় প্রধানের নির্দেশনাও আসছে। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থী বাছাই করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর পর্যালোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত স্থায়ী কমিটির সদস্য এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও দৃশ্যমান উন্নতির আশ্বাস দেন। এছাড়া দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বৈঠকে আলোচনায় স্থান পায়।
শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সশরীরে ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








