নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ২ আগস্ট ২০২৬

‘গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সংবাদ সঠিক নয়’

‘গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সংবাদ সঠিক নয়’

ফাইল ছবি

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। 

শনিবার (০১ আগস্ট) রাতে পৃথকভাবে একই বার্তা দিয়ে জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে সরকারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। 

তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ ভিত্তিহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

একই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলাও একটি ব্যাখ্যামূলক বার্তা প্রকাশ করে জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। 

সংস্থাটি জানায়, ভবিষ্যতে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা প্রচলিত বিধি-বিধান ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণকে জানানো হবে। এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

আরও পড়ুন: সংকটের মাঝেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেট্রোবাংলার

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় গ্যাসের মূল্য সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির ওপরও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে যায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পায়।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটিতে দুটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা বয়লার রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে পুরো টার্মিনালটি বন্ধ রাখা হলেও অক্ষত ইউনিটটি দ্রুত চালুর কাজ চলছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে একটি ইউনিট চালু করে দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আর আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরো টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এলএনজি আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে গ্যাস খাতে নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তা সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ ধরনের খবরকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়