নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তিনি।
এ সময় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, টানা দুই দিনব্যাপী এই আকস্মিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে দেখেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতেও উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাই করতে আকস্মিক সফরে বের হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফার্মগেট এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তার গাড়ি বহর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী এবং বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি হয়ে গুলশানের বাসভবনে ফিরে আসে। এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সফরে গাড়িতে বসেই নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক সংস্কারের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে নিজের গুলশানের বাসভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাদের নিয়ে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে পুনরায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে বের হন তিনি।
আরও পড়ুন: রাতে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর ও পরিদর্শনের রুট ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। ইসিবি চত্বর, মিরপুর ডিওএইচএস, দিয়াবাড়ি, উত্তরা সেক্টর ৩, ৪, ৫ ও ৬ এবং এয়ারপোর্ট রোড হয়ে কাকলী মোড় হয়ে মহাখালী ও ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর (সলিমুল্লাহ রোড, ইকবাল রোড, তাজমহল রোড ও জাপান গার্ডেন সিটি), শ্যামলী মোড়, গণভবন মোড়, জিয়া উদ্যান, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, সৈনিক ক্লাব, কাকলী এবং বনানী এলাকা ঘুরে সন্ধ্যা নাগাদ গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনে ফিরে আসেন। এর মধ্যে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশান থেকে যাত্রা শুরু করার পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করে। টানা এই দীর্ঘ পথ পরিভ্রমণ শেষে মাগরিবের আজানের ঠিক আগে গুলশানের বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল নজর ছিল রাজধানীর বর্জ্য বা ময়লা ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ এবং ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে নাগরিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে সবুজায়ন এবং বৃক্ষরোপণের সম্ভাবনা ও অগ্রগতি সরেজমিনে মূল্যায়ন করেন তিনি। কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা বা ময়লা-আবর্জনার দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি দেখলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নিবিড় পরিদর্শনে তার গাড়িতে এবং বহরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (২) মো. মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব (২) আব্দুর রহমান সানী। এছাড়া অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্যান্য ব্যক্তিগত কর্মকর্তার গাড়িও এই বহরে অংশ নেয়।
শুক্রবারের পরিদর্শনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বর্তমান প্রশাসন একটি নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের প্রতি এই সরকারের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আগামী দিনেও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে, তাই নাগরিক দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেভাবে গণমাধ্যম বা সাংবাদিকরা মানুষের সমস্যাগুলো সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেন, সরকার তার চেয়েও বেশি আন্তরিকতা নিয়ে সেই সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই স্বয়ংক্রিয় ও মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব প্রমাণ করে যে রাজধানীর নাগরিক সেবাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








