দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে আরজেএসসির সাবেক নিবন্ধক
ছবি: সংগৃহীত
যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-এর সাবেক নিবন্ধক মিজানুর রহমান (এনডিসি) এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের ৭ম তলায় অবস্থিত। দেশের লিমিটেড কোম্পানি, পার্টনারশিপ ফার্ম, সোসাইটি ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই দপ্তর থেকে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখার সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেনের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে (স্মারক নম্বর: ০০.০১.০০০০.৫০২.০১.০৭০.২৫/২৮০১১, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬) মিজানুর রহমানসহ আরজেএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানানো হয়।
দুদকের নোটিশে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আরজেএসসিতে দায়িত্ব পালনকালে মিজানুর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন, বিভিন্ন অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী মো. তাজুল ইসলামকে গত ২৩ জুলাই দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাজুল ইসলাম বর্তমানে আরজেএসসির এক্সামিনার অব অ্যাকাউন্টস পদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি সাবেক নিবন্ধকের সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আরজেএসসিতে বিভিন্ন কোম্পানি নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ লেনদেনের একটি অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় গ্রেফতার লতিফ সিদ্দিকী
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থের বিনিময়ে অনেক ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলেও অর্থ না দিলে অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের শুরুতে মিজানুর রহমান আরজেএসসির নিবন্ধক হিসেবে যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও বেড়ে যায়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, টাউট ও দালাল চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন অনিয়মযুক্ত কোম্পানির ফাইল অনুমোদন ও রেকর্ডভুক্ত করার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে।
মিজানুর রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি সাবেক নিবন্ধকের সময়ে দপ্তরের বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমানের দায়িত্বকালে আরজেএসসিতে বহিরাগত দালালদের প্রভাব বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ, বর্তমান সময়েও দপ্তরটিতে দালালনির্ভর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বর্তমান নিবন্ধক অতিরিক্ত সচিব নূরুন্নবী কবিরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মহল থেকে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন অনুসন্ধান প্রয়োজন।
আরজেএসসিতে নিয়মিত কাজ করা আইনজীবী ও ব্যবসায়িক স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরজেএসসির অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের দায় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








