নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫১, ৩০ জুলাই ২০২৬

মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর

মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকের এটি প্রথম বাংলাদেশ সফর। 

সাম্প্রতিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ঢাকার ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সফরকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের এই সফরে ব্যস্ত সময় পার করবেন মার্কিন বিশেষ দূত। আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) সার্জিও গোর কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখবেন। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। 

এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

আরও পড়ুন: সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গোরের সফরের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলো অনুধাবন করা এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে এক নতুন গতিশীলতা এসেছে। বিশেষ করে গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। 

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ঢাকার কৌশলগত অবস্থান এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে চায়। এছাড়া চীনের প্রস্তাবিত মিয়ানমার হয়ে অর্থনৈতিক করিডোর এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার বর্তমান সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। একই সঙ্গে মস্কো ও আঙ্কারার সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের বর্তমান অগ্রগতি ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়গুলোও তুলে ধরতে পারেন এই মার্কিন দূত।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হওয়া বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাক্ষাতে সার্জিও গোর উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। 

তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সফরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের সাবেক পরিচালক হিসেবে সার্জিও গোরের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমুখী অংশীদারিত্ব নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়