নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৭, ২৯ জুলাই ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় গ্রেফতার লতিফ সিদ্দিকী

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় গ্রেফতার লতিফ সিদ্দিকী

ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল এবং সেই পরোয়ানার বলেই তাকে গুলশান এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৪১ জন আসামির মধ্যে তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লতিফ সিদ্দিকী সে সময় দাবি করেছিলেন যে, পুলিশ যদি তাকে এ মামলায় গ্রেফতার না করে, তবে তিনি নিজেই আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। তবে ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতার মুখে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তাকে গ্রেফতার হতে হলো। শাহবাগ থানার হাজিরা শেষে ফেরার পথেই কিংবা পূর্বনির্ধারিত নজরদারির অংশ হিসেবে গুলশানের বাসা থেকে ডিবির একটি দল তাকে আটক করে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: আত্মগোপন করি না, আত্মপ্রকাশ করি

আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামিদের তালিকায় রয়েছেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের পরই দেশজুড়ে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়।

আলোচিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃনাল কান্তি দাশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ও ডা. ইমরান এইচ সরকার।

অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহিদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মোখলেসুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মো. মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মুহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান এবং বি এম ফরমান আলী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা জারির পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক এই গ্রেফতারসহ এই চাঞ্চল্যকর মামলাটিতে বর্তমানে মোট ৯ জন আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা গ্রেফতার রয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী (নতুন গ্রেফতার) আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়