নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

শিল্পের গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

শিল্পের গ্যাস সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

ফাইল ছবি

সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অভাবে দেশের শিল্পখাতে যে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনে জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের ও শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র (টেক্সটাইল) খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বিগত বছরগুলোতে সঠিক সময়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার ফলেই আজ শিল্পখাতে এই নজিরবিহীন গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

তবে বর্তমান সরকারের আন্তরিক মনোভাব ও সংকট সমাধানে নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় পদক্ষেপ উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। 

আরও পড়ুন: হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে টেক্সটাইল খাতের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের চেষ্টা করছেন। শিল্পখাত বর্তমানে যে ধরনের মনোযোগ, গুরুত্ব ও পলিসি সাপোর্ট পাচ্ছে, তার সিকিভাগ সহযোগিতা যদি বিগত ১৭ বছরেও পাওয়া যেত, তবে আজকের এই সংকটের মুখে পড়তে হতো না। সরকারের এই আন্তরিকতা ও সময়োপযোগী মানসিকতা দেখে উদ্যোক্তারা অত্যন্ত উৎসাহিতবোধ করছেন।

শিল্পখাতের বর্তমান বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের যেসব টেক্সটাইল ও শিল্পকারখানা গ্যাস সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কিংবা আংশিক উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হচ্ছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিটিএমএ সভাপতি জানান, প্রতিটি কারখানার বর্তমান অবস্থা কী এবং কোথায় ঠিক কতটুকু সহায়তা বা নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তাদের এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমস্যাগুলোর যদি দ্রুত অবসান ঘটানো না যায়, তবে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। সরকার ও শিল্প উদ্যোক্তারা যদি সম্মিলিতভাবে ও সমন্বিত উপায়ে এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারে, তবে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এর ফলে একদিকে যেমন লাখ লাখ কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে, তেমনি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা এবং রপ্তানি আয় আরও বহুগুণ শক্তিশালী হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়