নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৫, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানের বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপানের বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে জাপানের আরও সক্রিয় ও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে, জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক এবং গাড়িচালক (ড্রাইভার) নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রতি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে জাপানি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। 

আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (শিল্প পার্ক) সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ ধরনের আরও একটি শিল্প পার্ক বা জোন স্থাপনে জাপান যদি নতুন করে আগ্রহ দেখায়, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার জন্য যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বহুল প্রতীক্ষিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং রাজধানী ঢাকাকে জাস্টিস ও আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে চলমান ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি বা মেট্রো রেল) প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জাপানি পক্ষকে অবহিত করা হয় এবং সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। আঞ্চলিক সংযোগ এবং যোগাযোগ খাতের এসব মেগা প্রকল্প দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে বলে বৈঠকে মতবিনিময়কালে উঠে আসে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। 

অন্যদিকে, জাপানি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়