News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০২, ৪ মার্চ ২০২৬

দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ

দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ

ফাইল ছবি

দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড প্রবর্তনের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে সংস্কার করে সেগুলোকে জনকল্যাণে ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই সুদূরপ্রসারী নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর কার্যক্রম শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র এলজিইডি-রই ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এলজিইডি-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের সকল ভবনকে আধুনিক ক্লিনিকে রূপান্তর করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারে।

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা পুনরুল্লেখ করা হয় এই বৈঠকে। বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ৭৪ হাজার শূন্য পদে দ্রুত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বৈঠকে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বছরে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্মের পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও তৎপর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকার প্রধান। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ক বৈঠকের আগে সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ সংক্রান্ত বিশেষ সেলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান। এই কর্মপরিকল্পনার আওতায় সরকারি নার্সারির পাশাপাশি বেসরকারি উৎস থেকেও চারা সংগ্রহ করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর তীর, সড়ক-মহাপড়কের দুই পাশ এবং বনাঞ্চলে ব্যাপকহারে গাছ লাগানো হবে। এই কর্মসূচির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে গাছ রোপণ করবে এবং সেটির পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করবে।

দিনের অপর এক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে আনসার বাহিনীকে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

পৃথক এই বৈঠকগুলোতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়