কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১৩২
ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫৭০ জন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ,ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত অতিরিক্ত ত্রাণ, উদ্ধার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলার সভাপতিত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। শক্তিশালী কম্পন দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি ভবনে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, একটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়েছিল। প্রতিবেশীরা মিলে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। তবে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে।
রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা অংশ ধসে পড়তে দেখা গেছে। এতে আশপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয় এবং আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসেন।
ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আবারও উত্তাল ভারত
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, আহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশক সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








