মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মারা গেছেন
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, সিতি হাসমাহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশবাসী তার মাতৃসুলভ ভূমিকা ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। এ সময় মাহাথির মোহাম্মদ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম।
মালয়েশিয়ায় ইবু নেগারা বা জাতির মা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।
সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরের বছর, ১৯৫৬ সালে তাদের বিয়ে হয়।
এই দম্পতির সাত সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ।
চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছেন সিতি হাসমাহ। মাহাথিরের নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।
১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখেছিলেন তিনি। গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় তার কাজ প্রশংসিত হয়।
১৯৯২ সালে মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন দল দীর্ঘ ২৫ বছর পর থমাস কাপ জয় করলে সিতি হাসমাহর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেশটির মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সে সময় তিনি মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দলের খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন।
মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দেয়। দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তার সঙ্গী ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান
২০১৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় মাহাথিরকে কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন সিতি হাসমাহ। নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে মাহাথির তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন বলেও স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








