‘বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-বৌদ্ধরা অনুপ্রবেশকারী নন’
ফাইল ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ থেকে প্রব্রজন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের ডিজিটাল জনগণনা প্রক্রিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা তথা বিশিষ্ট বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে জীবন বাঁচাতে বা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তারা শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও পাবেন।
শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ২০২৭ সালের জনগণনার অংশ হিসেবে প্রথম ডিজিটাল স্ব-তথ্য নিবন্ধন (সেলফ-এনুমারেশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীর মধ্যে আইনি পার্থক্য স্পষ্ট করে তুলে ধরে বলেন, দুই শ্রেণিকে এক কাতারে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
শুভেন্দু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সিএএ-সংক্রান্ত নীতিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী, ধর্মীয় নিপীড়ন কিংবা জীবন রক্ষার তাগিদে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা করা যাবে না। একই সঙ্গে পুলিশও তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না।
তার ভাষ্য, এসব মানুষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন; তারা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী।
এর বিপরীতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের শনাক্ত করা হবে এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্য নয় বাংলাদেশ
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভরণপোষণ বা তাদের দায়িত্ব নেওয়া ভারতের কোনো নৈতিক কিংবা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়।
শুভেন্দু অধিকারী এ সময় অতীতে নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ঘটে যাওয়া একটি ভুলের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমে এক ভারতীয় নাগরিককে ভুলবশত সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান সরকার এমন ব্যবস্থা করবে, যাতে কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এ ধরনের প্রক্রিয়ায় হয়রানির শিকার না হন।
অনুষ্ঠানে তিনি জনগণনা কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তার মতে, জনগণনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই; এটি একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের জনগণনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, এবারই প্রথম রাজ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা পরিচালিত হচ্ছে। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনে স্ব-তথ্য নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করবেন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গণনাকারী এবং ৩০ হাজার তদারককারী কর্মকর্তা। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে। জনগণনা কার্যক্রম ২০২৭ সালের নির্ধারিত রেফারেন্স তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে চলবে।
উল্লেখ্য, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অভিবাসীদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্বের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায় এই আইনের আওতার বাইরে থাকায় আইনটি নিয়ে দেশটির ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও মানবাধিকারভিত্তিক বিতর্ক চলছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








