আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ৩১ জুলাই ২০২৬

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার তাগিদ ভারতের কমিটির

গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার তাগিদ ভারতের কমিটির

ছবি: সংগৃহীত

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের (২০২৬ সাল) ডিসেম্বরে শেষ হতে চলায় দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত ঢাকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি কঠোর তাগিদ দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। 

সম্প্রতি লোকসভায় পেশ করা পঞ্চদশ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে এই তাগিদ দেওয়া হয়। 

কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং সময়মতো চুক্তি নবায়ন না হলে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।  

সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, কেবল গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক বা পর্যালোচনার ওপর নির্ভর না করে ভারত সরকারের উচিত দ্রুত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পন্ন করা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল বা পানিপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস এবং ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সরকারের স্বার্থ ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর রূপরেখা তৈরি করা। অতীতে নদীসংক্রান্ত যেকোনো চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় রাজ্যগুলোর আপত্তির বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনায় নেওয়া হতো। বিশেষ করে ফারাক্কার উজানে পলি জমার কারণে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি এবং পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব পানির চাহিদার বিষয়টি এবারের আলোচনাতেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৬ সালের চুক্তিটির মূল ভিত্তি ছিল কেবল ফারাক্কায় পানিপ্রবাহের হিস্যা নির্ধারণ ও ৫০:৫০ অনুপাতে পানি ভাগাভাগি। কিন্তু গত তিন দশকে ভূ-রাজনীতি, জলবায়ু এবং দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও পানিবণ্টন চুক্তিগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: বেলুচিস্তানের দুই কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩৪

বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিবর্তিত বাস্তবতায় কেবল গঙ্গা চুক্তি নয়, বরং আন্তসীমান্ত নদীর সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, যৌথ নদী কমিশনকে (জেআরসি) আরও শক্তিশালী করা এবং নেপাল, ভুটান ও চীনের মতো অববাহিকাভুক্ত দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।  

এদিকে ভারতের সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য সংবেদনশীল ইস্যুগুলোও স্থান পেয়েছে। কমিটির প্রশ্নের জবাবে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতের মাটিতে থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, মানবিক কারণে আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে ভারত তার ঐতিহ্য বজায় রাখলেও অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতিতে কঠোর রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি যাতে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় থাকে, সে বিষয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় প্যানেল।  

অপরদিকে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের পক্ষ থেকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব ও উভয় দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব অনুধাবন করে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে। তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য ঝুলে থাকা অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং গঙ্গা চুক্তির সময়মতো নবায়ন কেবল পানি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং এটি সামগ্রিক ভারত-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়