News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ৩ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলকে রুখতে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি কিমের

ইসরায়েলকে রুখতে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি কিমের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় নেই, বরং তা বিশ্বযুদ্ধের এক আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ কাটিয়ে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর, এবার সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। 

সর্বশেষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ পেয়েছে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের এক নজিরবিহীন বার্তায়, যেখানে তিনি সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান।

পিয়ংইয়ং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানালে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে “ধ্বংস করতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট”- এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়; এটি পশ্চিমা জোটের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে।

এদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা রাতে তেহরানে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। 

সামরিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের অন্তত এক হাজার দুই শতাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তেহরান এই পরিসংখ্যানকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে।

আরও পড়ুন: সীমান্ত সংঘর্ষে কাবুলে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি

সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবু এই মৃত্যুর ঘটনা ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিসরেও চাপ বাড়াচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি এ দাবি সত্য হয়, তবে তা কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সরাসরি আক্রমণের শামিল হবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা দুবাইয়ের একটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল বলে তাদের দাবি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যসহ একাধিক সেনা উপস্থিত ছিলেন। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেনি এবং ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের কথা জানিয়েছে।

পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্রে স্পষ্ট, উভয় পক্ষের বক্তব্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং কৌশলগত হুমকি, পাল্টা হুমকি এবং আঞ্চলিক জোট রাজনীতির সমীকরণ সংঘাতকে বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে- এমন সতর্কবার্তাও উচ্চারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণমহলে।

বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর। তবে আপাতত যে বার্তাটি স্পষ্ট- মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আর কেবল দুই দেশের সীমায় আবদ্ধ নেই; এটি ক্রমশ বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়