হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়েই চলেছে
ফাইল ছবি
সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪০৫ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন এই পরিসংখ্যানের ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৫ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩৮৯ শিশু।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের এই আকস্মিক প্রকোপ এবং দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধি নতুন করে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের কারও শরীরে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হয়নি। তবে তারা সবাই হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিল। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ৪০৫ সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ৮৯ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনে। অন্যদিকে একই সময়ে সম্ভাব্য বা সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে।
আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৬ শিশুর
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংক্রমণের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৮৬৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। যদিও চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন রোগী। তবে প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামের বিস্তার শিশুদের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকাদানের বাইরে রয়েছে অথবা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








