নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ২৭ জুলাই ২০২৬

জাতীয় অধ্যাপক হলেন ড. মাহবুব উল্লাহ

জাতীয় অধ্যাপক হলেন ড. মাহবুব উল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ষাটের দশকের ছাত্রনেতা অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অনুযায়ী অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ কোনো স্বীকৃত গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন। গবেষণার বিষয় নির্বাচন করার পর সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, তিনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তার শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত রাখবে। পাশাপাশি গবেষণালব্ধ তথ্য, উপাত্ত ও ফলাফল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিতে পাঠাতে হবে, যাতে গবেষণা কার্যক্রমের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও তদারকি নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন: নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা ভোগ করবেন। তবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরি বা পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ এবং পরবর্তীকালে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জননীতি নিয়ে তার গবেষণা, বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং জনবক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে দেশের নীতিনির্ধারণী মহল, শিক্ষাঙ্গন ও সাধারণ পাঠকের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।

মাহবুব উল্লাহ স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত জনবুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। অর্থনীতি ও উন্নয়ন চিন্তার পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তার গবেষণা এবং বিশ্লেষণ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থী ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলাদেশে জাতীয় অধ্যাপক পদটি দেশের সর্বোচ্চ একাডেমিক রাষ্ট্রীয় সম্মানগুলোর অন্যতম। শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও চিন্তাবিদদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতীয় অধ্যাপক পদ প্রবর্তিত হলেও দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ, শর্তাবলি ও সুবিধাদি সিদ্ধান্তমালা, ১৯৮১ অনুসারে এ নিয়োগ দেওয়া হতো। পরবর্তীতে সময়োপযোগী করে বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ প্রণয়ন করা হয়। সেই নীতিমালার আওতায় সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনোনয়ন কমিটি গঠন করে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়