নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
ফাইল ছবি
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি ও জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলবে চলতি মাসের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর এবং পরিদর্শন শাখা থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বিদ্যালয় পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিলম্ব ফি ছাড়া সাধারণ ধারায় জনপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৬ টাকা। এই ফি-এর মধ্যে মূলত রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়াও শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল, ক্রীড়া, স্কাউট, গার্লস গাইড, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিএনসিসি ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩০ আগস্টের মধ্যে ফি পরিশোধ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে, বিলম্ব ফিসহ অতিরিক্ত ১৫০ টাকা (একটি বিজ্ঞপ্তিতে ১৪০ টাকা উল্লেখ থাকলেও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ফিসহ মোট ৩৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে) যুক্ত করে মোট ৩৩৬ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে নিবন্ধন করতে হবে।
ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত জটিলতা দূর করতে এবারও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বোর্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাউকে সশরীরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ইআইআইএন (EIIN) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে OEMS/eSIF অপশনে প্রবেশ করবেন এবং eSIF SSC 2026 এর মাধ্যমে সোনালী সেবা স্লিপ প্রিন্ট করে ফি পরিশোধ করতে পারবেন। ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে অনলাইনে eSIF ফরম পূরণ করা যাবে। তবে একই চালানের ফটোকপি ব্যবহার করে একাধিকবার বা ভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া যাবে না বলে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ১০ আগস্ট
নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। কেবল অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং পূর্বে রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও এই নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। কোনো শিক্ষার্থীর বয়স ১২ বছরের কম বা ১৮ বছরের বেশি হলে সিস্টেমে তার রেজিস্ট্রেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে এবং তা গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া অনলাইন নিবন্ধনের সময় শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ এবং অভিভাবকের সচল মোবাইল নম্বরসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভুলভাবে সংযুক্ত করতে হবে। অনলাইনে আপলোড করা তথ্যের বাইরে পরবর্তীতে বোর্ডের কাছে অন্য কোনো বাড়তি দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে তথ্যের ভুলত্রুটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি শিক্ষকসহ ৩ সদস্যের একটি বিশেষ রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইনে ফাইনাল সাবমিট বা তথ্য প্রেরণের আগে বিদ্যালয়ের মূল ভর্তি ফরমের সঙ্গে অনলাইন ডাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখার মূল দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির ওপর। বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রেজিস্ট্রেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কাজে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা যাবে না। তথ্যে কোনো ধরনের ভুল বা অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং কমিটির তিন সদস্য যৌথভাবে এর সম্পূর্ণ দায় বহন করবেন। তাছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বা কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তার পূর্ণ দায়দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে একা বহন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের সমন্বয় রাখার কথা বলা হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চূড়ান্ত করতে হবে। তবে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে বিভাগ বিভাজন বা নির্ধারণ করতে পারবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেবেন, যার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধান শিক্ষকের নিকট লিখিত আবেদন জমা দেবে।
নিয়মিত রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়াও কিছু অতিরিক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ফি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন বাবদ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার টাকা এবং বিশ্ব স্কাউট সংস্থার বার্ষিক ফি বাবদ ৪০০ টাকা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে পে-অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি বা স্বীকৃতির মেয়াদ নবায়ন হালনাগাদ নেই, তাদের প্রতি তিন বছর মেয়াদি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অবিলম্বে অনলাইনে নবায়নের আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি নতুন স্বীকৃতি লাভকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে বলে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








