News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৬ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির ‘রেড অ্যালার্ট’

জ্বালানি পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির ‘রেড অ্যালার্ট’

ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সম্ভাব্য সংকটকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্তে তেলের অবৈধ পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী দিনাজপুর ও যশোর অঞ্চলের জেলাগুলোতে পাচার রোধে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, টহল জোরদার এবং কঠোর নজরদারি শুরু করা হয়েছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ও শুক্রবার (০৬ মার্চ) থেকে এই কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়।

দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে দিনাজপুরের সীমান্তে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার হতে দেওয়া হবে না।

সীমান্তে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে জানা গেছে, বিভিন্ন অসাধু চক্র সীমান্ত পথে অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও তেলের বাজারে ওঠানামা এই সুযোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবি নিয়মিত টহল এবং নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানীতে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ

যশোর সীমান্তেও একই সতর্কতা প্রয়োগ করা হয়েছে। যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে জানানো হয়েছে, বেনাপোল স্থলবন্দর, শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। অতীতে যেসব রুটে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলের সংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেল পাম্পগুলোতে ভিড় জমেছে। অধিকাংশ বাইকার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল চাইছেন, ফলে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন থাকলেও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাম্পগুলোতে তেলের মজুত আগামী রোববার পর্যন্ত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা তার আগেই শেষ হতে পারে।

হিলি সীমান্তেও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী জানান, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দেশে ফেরার সময় তল্লাশি করা হচ্ছে। 

বিজিবি নিশ্চিত করেছে, কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার হতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়