পরকীয়ার অভিযোগে পাবনায় মধ্যযুগীয় নির্যাতন
ফাইল ছবি
পাবনার ঈশ্বরদী ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রেমের টানে দেখা করতে এসে স্থানীয়দের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক যুবক ও এক তরুণী। তাদের দুজনকে গাছের সাথে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন করা হয়। মধ্যযুগীয় কায়দায় এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়েরদায়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঠালপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে কবিরুল ইসলামের সঙ্গে ওই গ্রামের সুমি খাতুন নামে এক তরুণীর পূর্বপরিচয় ছিল। মঙ্গলবার রাতে কবিরুল ওই তরুণীর বাড়িতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বুধবার সকালে একটি ঘরের ভেতরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের আটক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর উত্তেজিত জনতা দুজনকে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। হাত-পায়ে দড়ি ও লোহার শিকল পরিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শিশু ইরাকে গলা কেটে হত্যার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
ঘটনার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে এ ধরনের আচরণকে অমানবিক ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল; জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পাবনা জেলা মনিটরিং কর্মকর্তা কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কোনো অবস্থাতেই কাউকে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করা আইনসঙ্গত নয়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানান, বিষয়টি তার জানা হয়েছে, তবে ঘটনাস্থল তার থানার আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করেছেন।
অন্যদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে। জনতার হাতে বিচার ও প্রকাশ্য লাঞ্ছনার মতো প্রবণতা রোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি হয়ে উঠেছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








