সীতাকুণ্ডে শিশু ইরাকে গলা কেটে হত্যার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের কন্যাশিশু জান্নাতুল নিশা ইরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুলিশ নিহত শিশুর হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মাহবুব আলমকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল।
তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় এনেছে।
সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে মাহবুব শিশুটি হাত ধরে ইকোপার্কের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, যা মামলার তদন্তে প্রধান সূত্র হিসেবে কাজ করেছে।
শিশুটি মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এর আগে, গত রবিবার (০১ মার্চ) সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের গভীর পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। উদ্ধারকালে শিশুর গলায় প্রচণ্ড রক্তপাত দেখা যায়। শ্রমিকরা কাপড় দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং তাকে দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই শিশুটির গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ধর্ষণ চেষ্টাকালে পুরুষের বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন নারী
পরিবার ও চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাত এবং পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় শিশুটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে উরুর অঞ্চলে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে পুনরায় নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত শিশুর চাচা আজিজ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল মনে হচ্ছিল। সে ইশারায় তাদের সঙ্গে কথা বলছিল। তবে রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে শিশুটি প্রচণ্ড অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করে। চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় তাকে পানি বা খাবার দেওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় কিছু তথ্য জানাতে চেষ্টা করেছিল এবং একটি নামও নির্দেশ করেছিল, তবে তা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
শিশুর মা ১ মার্চ রাতে সীতাকুণ্ড থানায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন। শিশুর মৃত্যুর পর সেই মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা ইতোমধ্যেই রুজু করা হয়েছে এবং মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি কুমিরাতের বাসিন্দা। উদ্ধারকৃত স্থান তার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ-সাত কিলোমিটার দূরে।
পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটি একা সেখানে যেতে পারেনি; সম্ভবত কেউ তাকে ফুসলিয়ে বা অন্যভাবে সেখানে নিয়ে এসেছে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








