News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১১, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

সমালোচনার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার

সমালোচনার মুখে পদত্যাগের ঘোষণা ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে তিনটার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার জন্য তিনি ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

একই দিনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-তেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার স্ট্যাটাসের শিরোনাম ছিল—‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’।

ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো একাধিক ঘটনা ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সর্বমিত্র চাকমা অভিযোগ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন দেয়াল টপকে নিয়মিতভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশ করে। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে এবং কখনো কখনো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়, যা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। এই বাস্তবতায় কার্যকর সমাধান না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন: তুচ্ছ ঘটনায় তিতুমীর কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করান। যদিও তার এই পন্থা ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের শাস্তি দেওয়া তার কাম্য বা প্রত্যাশিত আচরণ ছিল না। এ ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। ক্যাম্পাস নিরাপদ করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই রেজিস্টার্ড রিকশা চালু, যানবাহন সীমিতকরণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তিনি প্রশাসনে দিয়েছেন। তবে নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও একা হাতে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাকে কখনো কখনো আইনের ঊর্ধ্বে যেতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা তার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থাকে বিষিয়ে তুলেছে।

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি আর এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অনুভব করছেন না। এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির প্রতি ক্ষোভ, অভিমান কিংবা কারও প্ররোচনায় নেওয়া হয়নি। 

তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে তিনি সক্ষম হননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কিশোর ও তরুণ সারিবদ্ধভাবে কান ধরে ওঠবস করছেন। তাদের সামনে হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। ভিডিওটি ৬ জানুয়ারির ঘটনা বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরদিনই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়