নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪০, ২ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৩:৪৪, ২ আগস্ট ২০২৬

‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’

‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক কক্ষে দুই বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে সমকামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হল প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত হল সংসদ নেতার আবাসিক সিট বাতিল করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যায়, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৭ জুলাই এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে উপস্থিত দুই যুবক অনৈতিক ও সমকামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করছেন এবং ভিডিওচিত্রটি প্রকাশ্যে না আনার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা দুই অতিথি খলিলের কক্ষে এসে ওঠেন এবং পরবর্তীতে তাদের সেখানে আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। 

অনয় আরও উল্লেখ করেন যে, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের স্বীকারোক্তি ভিডিওতে ধারণ করলেও ঘটনার স্পর্শকাতরতা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো ভিডিওটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে।

এদিকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেসবুকে এক বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এজিএস ইব্রাহীম খলিল জানান, ঘটনাটি তার কক্ষে সংঘটিত হলেও এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা পূর্বধারণা ছিল না। পরিচিত ওই অতিথিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসায় মানবিক কারণে তিনি তাদের কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনা ঘটার সময় তিনি নিজে কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না এবং পরবর্তীতেও কেউ তাকে বিষয়টি অবহিত করেনি বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড সরবরাহ করেন। 

সেই কথোপকথনে এক অতিথিকে বলতে শোনা যায় যে, তারা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অপরাধে লিপ্ত হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু রুমমেট সরাসরি দেখে ফেলায় তা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভেস্তে যায়। ওই অডিও রেকর্ডে ইব্রাহীম খলিলকে এ বিষয়ে ওই অতিথির পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে তাদের বাড়িতে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করতেও শোনা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস পদে জয়লাভ করেছিলেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন।

হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের হলের বরাদ্দকৃত সিটটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

অন্যদিকে, হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান জানান, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কাছে ইতিমধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা ও জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। এজিএস এবং তার রুমমেটের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এবং ঘটনার বিবরণ জানাজানি হলে শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হলের একদল সাধারণ শিক্ষার্থী হলের পুকুরপাড়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। 

সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি নিছক কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং আবাসিক হলের নিরাপত্তা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং ছাত্রনেতাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক মহলে এক গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়