গ্যাস সংকটে ৫ ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সার উৎপাদন খাত। বর্তমানে দেশের মোট ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিরই উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুটে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকারের আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটির উৎপাদন তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় সার সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)–এর বাণিজ্য, উৎপাদন ও গবেষণা দপ্তরের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সরকারি পাঁচটি কারখানার মধ্যে বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন চালু রয়েছে, তবে সেটিও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিসিআইসির অধীনে থাকা সরকারি পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা হলো ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ
মনিরুজ্জামান বলেন, আগেই আশুগঞ্জ কারখানা বন্ধ ছিল। বুধবার থেকে বাকি তিনটি সরকারি কারখানার উৎপাদনও বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ কারণগুলো সম্পর্কে জ্বালানি বিভাগ বিস্তারিত জানাতে পারবে।
এছাড়া, বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)–ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সরকারি পাঁচটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেশের গ্যাস সরবরাহকে আরও অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে। দেশের জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
সরকার আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার সাশ্রয়ী করার আহ্বান জানিয়েছে। যদি বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে দেশের সার উৎপাদন ও সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








