|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২৮ জুলাই ২০২৬
আপডেট: ২১:৩৪, ২৮ জুলাই ২০২৬

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তি

ফাইল ছবি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম ২৭ দিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন ২৫২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২ দশমিক ৫২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। একই সময়ে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৫৭ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৬ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে। ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনে দেশের সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জুলাই মাসের ১ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রও প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৫৭ দশমিক ০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) Balance of Payments and International Investment Position Manual, Sixth Edition (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ২৩ জুলাই গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ৪৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে সামান্য হ্রাস পেলেও তা এখনো ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষেত্রে গ্রস ও বিপিএম-৬ এই দুটি পরিমাপই গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়সহ বিভিন্ন সমন্বয় করার পর যে রিজার্ভের হিসাব পাওয়া যায়, সেটিই আন্তর্জাতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য। এ কারণেই বাংলাদেশও এখন রিজার্ভ প্রকাশে বিপিএম-৬ মানদণ্ড অনুসরণ করছে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে যে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ পাওয়া যায়, তা দেশের প্রকৃত বৈদেশিক সক্ষমতার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: ২৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকা

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ২৭ দিনেই দেশে এসেছে ২৫২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে এসেছিল ২০৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রবৃদ্ধির হিসেবে ২০ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। একই সময়ে অতিরিক্ত এসেছে প্রায় ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারাবাহিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়তে থাকে। মাসের প্রথম ২১ দিনে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং পরবর্তী ছয় দিনে আরও প্রায় ৪৩ কোটি ডলার যুক্ত হয়ে ২৭ দিনে মোট প্রবাসী আয় বেড়ে ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার, প্রবাসীদের জন্য সরকারের নগদ প্রণোদনা, ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার সম্প্রসারণ এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহও শক্তিশালী থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় নির্বাহ, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানির অর্থ পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা আরও বাড়ছে। রিজার্ভে সামান্য ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও ধারাবাহিক রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক বৈদেশিক খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি জুলাই মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে এটি চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়