সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নানাবিধ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট সত্ত্বেও সরকার জনগণের দোরগোড়ায় জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের কষ্ট লাঘবে এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানসহ মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা কাকরাইল ও নাইটিঙ্গেল মোড় প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিরোধীদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে—এমনকি অনেক রাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকার নজিরও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে চলমান পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারের ওপর পড়ছে। এই বাস্তবতায় গ্যাস ও জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার পূর্বের উৎস এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সামর্থ্য ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটের মধ্যে লংমার্চ নিয়ে রিজভীর অভিযোগ
সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর প্রতিবেদনেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে ধাবমান থাকার আভাস মিলেছে। গরিব, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক জনপদে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় খরচে সাশ্রয় আনতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জীবনধারা ও মিতব্যয়িতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অতীতে যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা বিশাল বহর নিয়ে বিদেশ সফরে যেতেন, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ-ছয় দিনের সফরে বিদেশ গমন করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করেছেন।
বিরোধী দলের সমালোচনা ও মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকার বিরোধীদের অবাধ বাকস্বাধীনতা ও কর্মসূচি পালনের পূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে, যা গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। অথচ বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক কাজের প্রশংসাতো দূরের কথা, উল্টো নানা ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দেশের মানুষ এখন সচেতন এবং তারা বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারে। পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি বিদেশ থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের এদেশীয় কিছু গুপ্ত ও সুপ্ত অনুসারী নানা উপায়ে তাতে ইন্ধন জোগানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, উত্তরা, মিরপুর ও শাহবাগের মতো জনবহুল এলাকায় যানবাহনে আগুন দিয়ে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির মূল শক্তি এ দেশের সাধারণ জনগণ। অতীতে সকল ষড়যন্ত্রকে পদদলিত করে এ দেশের মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই বীরের জাতিকে কোনো ধরনের মিথ্যার বেড়াজাল দিয়ে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








