নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ১৫ আগস্ট ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯০২

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯০২

ফাইল ছবি

দেশে অব্যাহত রয়েছে হাম ও হামের উপসর্গের প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ ও নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৯৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ৭০ জন শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৭২৮ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে।

এই ৮ জনের নতুন মৃত্যুর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯০২ জনে। এর মধ্যে শুধুমাত্র হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮০৩ জন শিশু এবং পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৯। 

আরও পড়ুন: হামে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮৯৪

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৬৬ জনে এবং এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০০। একই সময়ে হাম ও এর জটিল উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন। 

কেবল গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই এক দিনে দেশের হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৭০০ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ জন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম মূলত রুবেওলা ভাইরাসের কারণে হওয়া একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও তীব্র বায়ুবাহিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়। উচ্চ জ্বর, তীব্র সর্দি, কাশি এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানার সৃষ্টি হওয়া এই রোগের প্রধান ও প্রাথমিক লক্ষণ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা না করা হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ বা অন্যান্য প্রাণঘাতী জটিলতার রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান এই মহামারির মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারের রোগতত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ বিভাগ দেশজুড়ে নিবিড় নজরদারি, জরুরি টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়